সারী নদীর ভাঙনের কবলে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক

37

পর্যটন এলাকা খ্যাত সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলাধীন সারীঘাটস্থ (দক্ষিণপাড়) নামক স্থানে সারী নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক।

সারী নদীর বুক বেয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে নদী ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে যে কোনো সময় সিলেট তামাবিল মহাসড়কের যোগাযোগ বিছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পথে জাফলং ও শ্রীপুর পাথর কোয়ারি থেকে উত্তোলনকৃত পাথর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেওয়া হয়। পাথর বোঝাই ওভার লোড ট্রাক সারী পোড়াখাই নদীর উত্পত্তিস্থলে চলাচল করায় ঐ এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যে কোনো মুহূর্তে সারী নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে সিলেট তামাবিল মহাসড়কটি। অপরদিকে প্রতিনিয়ত শঙ্কা নিয়ে চলাচল করেন স্কুল, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী ছাড়াও যানবাহন চালক এবং আগত পর্যকটরা।

বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নজরে আসলেও নদী ভাঙন ঠেকাতে, শুধু বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেই। অন্যদিকে বাঁশের বেড়া নির্মাণের সময় সওজ কর্তৃক বনবিভাগের লাগানো কয়েকটি গাছ কর্তন করে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এ মহাসড়কটিকে।

এলাকাবাসী বলেন, সময় মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের দুই পাশে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নিলে সারী নদীর ওপর শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারী ব্রিজসহ গোটা জৈন্তাপুর উপজেলা সদর, জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম আহমেদ জানান, ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণ ছাড়াও এ মহাসড়ক ধসের কারণ হলো—বালু বোঝাইকৃত অতিরিক্ত ইঞ্জিন নৌকা চলাচল। আমরা ইতিপূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে নদী তীর ভাঙনের তথ্য দিয়েছি। এছাড়া সারী নদীর ভাঙন ঠেকাতে সাময়িকভাবে বাঁশের বেড়া দিয়েছি। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরিন করিম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Facebook Comments