সরকারের সব বিষয় এড়িয়ে যাওয়া ভালো না

26

সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেকমন্ত্রী রাশেদ খাঁন মেনন বলেছেন, খোদাদ্রোহী নমরুদের মৃত্যু হয়েছিল এক মশার কামড়ে। আশা করি এই সরকারও মশাকে ছোট বিষয় ভাববেন না।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে টেলিযোগের মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ডেঙ্গু রোগ আমাদের দেশে এসেছে-সমবায় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে সঞ্চালক জানতে চাইলে মেনন তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এর আগে দক্ষিণের মেয়র ডেঙ্গুকে গণমাধ্যমের অতিরঞ্জিত প্রচারণা ও গুজব বলে আখ্যায়িত করেছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এডিশ মশার প্রজননের সাথে রোহিঙ্গাদের অতিরিক্ত প্রজননের সাথে তুলনা করেছে। অথচ মানুষ মারা যাচ্ছে তার কোন হুঁশ জ্ঞান নেই। বিদেশ সফরে চলে গেলেন। তবে সমালোচনার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফিরে আসেন। এখন সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাই ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে, দুর্ভাগ্য আমাদের। এসব কথা দায়িত্বশীল পদে থেকে বলে আর আমাদের শুনতে হয়। আপনারা যা বলেন, দয়া করে একটু ভেবে চিন্তে বলুন। মুখে আসলেই যা খুশি বলে দিচ্ছেন। নুন্যতম চিন্তা শক্তি যদি থাকে তবে এমন কথা বলা সম্ভব না।

তিনি বলেন, সকল কিছুতে দায় এড়ানোর মানসিকতা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের। যারা দায় এড়িয়ে ডেঙ্গুকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিল, মূলত মশার ওষুধে দুর্নীতি ডাকতে এই কার্য করেছিল। তারাই এখন এটিকে ভয়াবহ সংকট বলছে। এখন তাদের কেউ কেউ এটাকে বৈশ্বিক সমস্যাও বলছে। বৈশ্বিক সমস্যা বলে এর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। সব কিছুতে লুকোচুরি করা ভাল না।

এসময় তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশে কী হচ্ছে সেটা অবশ্যই জানান দরকার আছে। তবে আমাদের দেশের জনগণকে রক্ষা করতে পারছি কি-না সেটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। এ কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দল সে ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া সামাজিক সংগঠন ও পাড়া-মহল্লার ক্লাবগুলো উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গুর উৎস এডিস মশা অবশ্যই ধ্বংস করা যাবে। একই সঙ্গে চিকিৎসার প্রস্তুতিও রাখতে হবে।

Facebook Comments