পাল্টে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, নকশা দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী

52

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের চেহারা আর আগের মতো থাকছে না। বর্তমান কাঠামোতে স্টেডিয়ামটির আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পুরো স্টেডিয়ামেই ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খসড়া নকশাও দেখানো হয়েছে।

গত বুধবার (২১ আগস্ট) ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কারের খসড়া নকশা দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংস্কার কাজের দেখভাল করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করি আমরা ২-৩ মাসের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো।

আগামী বছর সারাদেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। মূল ভেন্যু হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করা হবে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি দেখাতে চান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

১৯৫৪ সাল থেকে স্টেডিয়ামটির রূপ পালাক্রমে পরিবর্তিত হয়েছে। তিন দফা বড় ধরনের সংস্কারসহ বিভিন্ন সময়ে স্টেডিয়ামের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। আর এবারের সংস্কার বাজেট ভেঙেছে অতীতের সব রেকর্ড। আন্তর্জাতিক মানের করতে পূর্ণ করা হবে ফিফা এবং এএফসির সকল চাহিদা।

২০২২ সালের জুন পর্যন্ত চলবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ। মাঠ, গ্যালারি আর ফ্লাড লাইটের সংস্কারকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হবে। ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজের জন্য একনেকে ৯৮ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে থাকবে স্বয়ংক্রিয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বদলে ফেলা হবে পুরো আউটফিল্ড, বসানো হবে নতুন ঘাস। ৭৫ শতাংশ গ্যালারিতে থাকবে মেমব্রেনের ছাউনি। গ্যালারিতে ২৫ হাজার নতুন চেয়ার স্থাপন করা হবে। বদলে যাবে অ্যাথলেটিক্স টার্ফ। পাওয়ার বাড়াতে ৪১০টি ফ্ল্যাডলাইটের সবগুলোই পরিবর্তন করা হবে। বসবে এলইডি স্ক্রিন, ডিজিটাল বোর্ড আর জেনারটের। মিডিয়া বক্সের সংস্কার, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ আমূল বদলে যাবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। তবে আপাতত স্টেডিয়ামের আশেপাশের দোকান সরানোর পরিকল্পনা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেই।

ঢাকার মতিঝিলে সমৃদ্ধ্ব ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে আছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। পূর্বের ঢাকা স্টেডিয়ামকে জাতির পিতার নামে নামকরণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। ২০০৫ সালে ক্রিকেটকে মিরপুরে পাঠানোয় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ফুটবলের ভেন্যু হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে যায়।

৬৫ বছরের সমৃদ্ধ্ব ইতিহাসে ক্রিকেট, ফুটবলের পাশাপাশি এশিয়া কাপ হকি, বক্সার মোহাম্মদ আলীর প্রদর্শনী ম্যাচ, আর্চারি, অ্যাথলেটিক্স আয়োজনের উদাহরণও এই স্টেডিয়াম দেখেছে। লিওনেল মেসি ও জিনেদিন জিদানের মতো তারকারাও পা রেখেছেন । পাশাপাশি জাতীয় দিবস আর রাষ্ট্রীয় আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও এই মাঠেই হয়েছিল।

সূত্র : চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর, সময় টিভি

Facebook Comments