নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের ভেজাল চিনবেন যেভাবে

39

আলোকিত সকাল ডেস্ক

খাদ্য মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার। খাবার ছাড়া মানুষসহ কোনো প্রাণীই বেঁচে থাকতে পারে না। তবে সে খাবার অবশ্যই হতে হবে বিশুদ্ধ। দূষিত বা ভেজাল মিশ্রিত খাদ্য মানুষের জন্য স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে বিশুদ্ধ খাবার খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার থেকে কেনা কোনো খাদ্যই যেন আর বিশুদ্ধ নেই! বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ভেজাল ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। এর মধ্যে মারা যায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া দূষিত খাদ্য গ্রহণজনিত কারণে ৫ বছরের কম বয়সের আক্রান্ত হওয়া ৪৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে মৃত্যুবরণ করে ১ লাখ ২৫ হাজার।

খাদ্যে ভেজাল মেশানোর পেছনে রয়েছে নানা কারণ। যার মধ্যে অন্যতম হলো অধিক মুনাফা লাভের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ফায়দালুটা। নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বিষাক্ত কেমিক্যালের মাধ্যমে বেশিক্ষণ সংরক্ষণ করে তারা অধিক লাভবান হচ্ছে।

এবার চলুন জেনে নেয়া যাক বিভিন্ন খাবারের ভেজাল শনাক্ত করার কিছু সহজ উপায়-

মরিচের গুঁড়া

মরিচের গুঁড়ার ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ মরিচের গুঁড়া মেশান। যদি পানির রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে এই মরিচে ভেজাল আছে।

কফির গুঁড়া

কফিতে মিশ্রিত ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানির উপরে সামান্য কফির গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। কফি পানির উপরে ভাসতে থাকলেও চিকোরি পানির নিচে চলে যাবে এবং রঙের সারি দেখা যাবে।

সরিষা বীজ এবং তেল

সরিষার ভেজাল নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি সরিষা বীজ নিয়ে চূর্ণ করুন। ভেজাল বীজ চূর্ণ করলে এর ভেতরে সাদা গঠন দেখা যাবে। অন্যদিকে সরিষার বীজের ভেতরে হলুদ অংশ দেখা যাবে।

আইসক্রিম

আইসক্রিমের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য এর উপর কয়েক ফোটা লেবুর রস ফেলুন। যদি ফেঁপে ওঠে তাহলে এতে ওয়াশিং পাউডার থাকাকে নির্দেশ করে।

চিনি

চিনির ভেজাল নির্ণয়ের জন্য ১ গ্লাস পানিতে চিনি মেশালে যদি সরাসরি নিচে চলে যায় তাহলে তা বিশুদ্ধ চিনি, আর যদি এর মধ্যে ভেজাল থাকে তাহলে এটি পানির উপরে ভাসতে থাকবে।

গোলমরিচ

কয়েকটি গোল মরিচ যদি অ্যালকোহলের মধ্যে দেয়া হয় তাহলে বিশুদ্ধ গোল মরিচ ভাসতে থাকবে এবং ভেজালযুক্ত থাকলে তা নিচে চলে যাবে।

চা

একটি নষ্ট ব্লটিং পেপারের উপরে কিছু চায়ের গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। যদি ব্লটিং পেপারের রঙ হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে যায় তাহলে বোঝা যায় যে, এর মধ্যে কৃত্রিম রঙ মেশানো আছে।

সর্বোপরি, প্রশাসনের সুনজর এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Facebook Comments