নাজিরপুরে সাড়ে তিন বছর ধরে সেতু ভাঙা

36

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার তালতলা শাখা নদীর একটি ভাঙা সেতুর কারণে এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নাওটানা-পাকুরিয়া নামের সেতুটি সাড়ে তিন বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। এতে নদীর দুই পাশের ১৩ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হাটবাজার, অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে বেগ পাচ্ছেন। দুটি খেয়ানৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তালতলা শাখা নদীর ওপর ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের লোহার সেতু নির্মাণ করে। ২০১৫ সালে মালবাহী একটি কার্গোর ধাক্কায় সেতুটি প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পরে ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আবারও কার্গোর ধাক্কায় সেতুটির ৫০ মিটার ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এরপর লোকজন খেয়ানৌকায় নদী পারাপার করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলা শাখা নদীর পশ্চিম প্রান্তে পাকুরিয়া, শিংখালী, গোলারহাট, কদমবাড়ি, আছরা, জুগিয়া, সাচিয়া ও লড়া গ্রাম। পূর্ব প্রান্তে নাওটানা, জিলবুনিয়া, রামনগর, চাঁদকাঠী ও কলারদোনিয়া গ্রাম রয়েছে। এছাড়া ভেঙে যাওয়া সেতুর পূর্ব প্রান্তে দীর্ঘা মহিলা কলেজ, দীর্ঘা টেকনিক্যাল কলেজ, গাওখালী স্কুল এন্ড কলেজ ও বৈঠাকাটা কলেজ, চাঁদকাঠি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, নাওটানা বিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারদোনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলারদোনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেবুজিলবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং গাওখালী বাজার ও চাঁদকাঠি বাজার, বৈঠাকাটা বাজার, কলারদোনিয়া বাজার ও দীর্ঘ বাজার রয়েছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় পশ্চিম প্রান্তের আটটি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা স্কুলকলেজ, হাটবাজার, উপজেলা সদর, হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতাল যাতায়াতের জন্য খেয়াপার হয়ে যেতে হয়। আবার সেতুর পূর্ব প্রান্তের গ্রামগুলোর মানুষের পশ্চিম প্রান্তের গ্রামগুলোতে যেতে খেয়াপারাপার হতে হচ্ছে।

পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সেতুটি ভেঙে পড়ার পর আমরা নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে আসছি। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরেও সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় তালতলা নদীর দুই পাশের গ্রামগুলোর মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। প্রতিদিন খেয়ানৌকায় কয়েকহাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীর নদী পার হতে হচ্ছে।

নাওটানা বি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিমা আক্তার বলে, প্রতিদিন দুই টাকা দিয়ে খেয়ানৌকায় নদীপারাপার হতে হয়। ছোটো নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নদী পার হচ্ছে। শিশুরা খেয়ানৌকায় নদী পার হতে ভয় পায়। এখানে সেতুটি নির্মাণ করা হলে আমাদের কষ্ট করে নদীপারাপার হতে হতো না।

নাওটানা বি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলী আশরাফ বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আটটি থেকে নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন খেয়ানৌকায় নদীপারাপার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছে। জরুরিভিত্তিতে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নাজিরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া বলেন, এলজিইডি এখন আর লোহার সেতু নির্মাণ করছেন না। ভেঙে যাওয়া সেতুর স্থলে গার্ডার সেতু নির্মাণ করার জন্য মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সেতুর জন্য নকশা করা হচ্ছে। নকশাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।\

Facebook Comments