টকারদের মারমুখী আচরণ কাম্য নয়

42

জাহাঙ্গীর কবির
দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বেশ কয়েক বছর ধরে টকশো বা আলোচনা অনুষ্ঠান চলে আসছে এবং তা প্রশংসাও কুড়িয়েছে। টকশোর মাধ্যমে বিভিন্নজন তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে রাজনৈক দলের পক্ষে এ সুযোগ বেশি থাকে।

সাংবাদিক, সমালোচক, পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা টকশোতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাদের মতপ্রকাশ করেন। এ অনুষ্ঠানটিতে সাধারণত দুটি পক্ষ থাকে- যারা আলোচ্য বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক করে থাকেন।

টকশোতে যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দেখা যায়, তারা তাদের যুক্তি-তর্ক দিয়ে যে যার যার পক্ষে কথা বলেন এবং নিজেদেরটাই সঠিক ও বাস্তব বলে বিশ্বাস করেন এবং করাতে চান।

বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা বা নেত্রী যখন টকশোতে আসেন এবং তর্ক-বিতর্কে অবতীর্ণ হন, তখন তারা কখনও কখনও এতই উত্তেজিত হয়ে পড়েন যে, তাদেরকে নিবৃত্ত করতে উপস্থাপক রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যান।

ধৈর্য ধরে কেউ কারও কথা শুনতে চান না। উভয়ে একইসঙ্গে বাকযুদ্ধ চালিয়ে যান। কে যে কী বলছেন, তা কারও পক্ষে শোনা বা বোঝার উপায় থাকে না। যিনি উপস্থাপক থাকেন তিনি তখন অসহায়ত্ব বোধ করেন। এমন টকশো দেখে দর্শক-শ্রোতারা কী পান সেটি একটি প্রশ্ন।

বলতেই হয়, আমাদের দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অতিথিরা যখন টকশোতে তর্ক-বিতর্কে অবতীর্ণ হন, তখন দর্শক-শ্রোতারা তাদের অনেকের মারমুখী আচরণ দেখতে পায়।

তাদের মধ্যে এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেন এই বুঝি তারা মারামারিতে অবতীর্ণ হবেন। তারা আলোচনায় কোনো ভালো দিকনির্দেশনা দিতে না পারলেও অতীত কর্মকাণ্ডের পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করতে চান। এবং এ প্রতিযোগিতায় কে কাকে নিচে ফেলে উপরে থাকবেন তার জন্য জীবনবাজি রাখেন। এতে দর্শক-শ্রোতারা যা বোঝার তা বুঝে নিলেও বক্তারা কিন্তু বুঝতে চান না।

টকশোতে রেগে গিয়ে কোনো একজন এ কথাও বলে ফেললেন যে, তিনি চলে যাবেন। কেউ চলে যাবেন অথবা আর একটু হলে কেঁদে ফেলবেন, এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু নীরব দর্শক-শ্রোতাদের কী হবে তা তাদেরকেই ভাবতে হবে।

চলে গেলে বা কেঁদে ফেললে দর্শক-শ্রোতারা যে তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে ভালো কথা শোনার আগ্রহ নিয়ে সময় ব্যয় করলেন, সে ক্ষতির দায় কে নেবে? পুরনো রেকর্ড বাজানো ছাড়া তাদের কি আর কিছুই বলার নেই? তাই অনুরোধ করব, টকশোতে এসে ধৈর্যের সঙ্গে মূল্যবান কথাগুলো বলুন এবং জাতিকে আগামী দিনের সুন্দর পথ দেখান। মনে রাখবেন, আপনাদের কাছে দর্শক-শ্রোতা ভালো কিছু আশা করে।

Facebook Comments