গলার কাঁটা রহিমপুরী খালের সেই বাঁধ

27

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের রহিমপুরী খালের সেই বাঁধটি এলাকার চাষিদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীফগঞ্জ বাজার থেকে সুলতানপুর ইউনিয়নের তিরাশী গ্রাম পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি ওই বাঁধের কারণে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়Ñ খালটি মরতে বসেছে এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচ ইউনিয়নের চাষাবাদযোগ্য ভূমিও মরুভূমিতে রূপ নিচ্ছে।

একসময় খুবই গভীর ওই খালে সারাবছর পানি থাকত এবং পাওয়া যেত প্রচুর মৎস্যসম্পদ। কিন্তু এখন ওই অবস্থা আর নেই। সামান্য পানি থাকে খালে। তা ছাড়া পুরো খালটি কচুরিপানায় ভরা। এ কারণে উপজেলার সুলতানপুর, বারঠাকুরী, কসকনকপুর, কাজলশাহ, মানিকপুর ও জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রামের জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের সুবিধা বাড়াতে ৩ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই খালে বাঁধ নির্মাণ করে। এর সঙ্গে নির্মাণ করা হয় একটি পাম্প হাউস। কিন্তু বাঁধে এলাকার মানুষের উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি হচ্ছে। খালে আর আগের মতো পানিপ্রবাহ থাকে না। শুষ্ক মৌসুমে দেড় শতাধিক গ্রামে পানির অভাবে চাষাবাদ হচ্ছে না। সম্প্রতি পানিসম্পদ সচিব জকিগঞ্জ সফরে এলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাটি তাকে অবহিত করা হয়। বিষয়টি জানানো হয় পানিসম্পদমন্ত্রীকেও। এর পরও এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খালে নির্মিত বাঁধটি বাংলাদেশ সীমানার অভ্যন্তরে পড়েছে। কিন্তু বিএসএফের প্রবল আপত্তির কারণে পাউবো বাঁধটি কাটার উদ্যোগ নিয়েও পারেনি। এখন কাছাকাছি স্থানে থেকেই বাঁধ পাহারায় ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিএসএফ। বাংলাদেশিদের চাষাবাদের সুবিধার্থে বাঁধটি কেটে দেওয়ার জন্য সম্প্রতি ভারতের শিলচরে দুই দেশের মধ্যে বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সমস্যার ব্যাপারে বারঠাকুরী ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন মোর্তজা চৌধুরী টিপু বলেন, বাঁধটি কেটে না দেওয়া হলে খাল সংলগ্ন ৫ ইউনিয়ন পানির অভাবে একসময় মরুভূমিতে পরিণত হবে।

ইউপি সদস্য জুবের আহমদ জানান, বাঁধ নির্মাণের কারণে খাল দিয়ে উজান থেকে পানি আসা বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুজ্জামান সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, বাঁধটি কাটার জন্য বারবার আলোচনা হচ্ছে। যখনই সিদ্ধান্ত হবে, তখনই বাঁধটি কেটে দেওয়া হবে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ বলেন, যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না।

Facebook Comments