কোথায় আজ নারীরা নিরাপদ!

45

সারিনা তাসফিয়া

সমাজের অন্য দুঃখ-কষ্টগুলোর মতো নারীদের ওপর নিপীড়ন ও অত্যাচার চলছেই এবং আর্থ-সামাজিক সংকটের কারণে তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ নারীর জন্মই হয় এমন এক সমাজে যা তার আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই পিতৃতান্ত্রিক সমাজ শাসনের বিধিনিষেধের বেড়াজালে বুনতে শুরু করে দেয়। তাই একটি কন্যাশিশুর জন্মেও আগমনী বার্তা জানানো হয় না কোন আজান, শঙ্খধ্বনি কিংবা উলুধ্বনি যেমনটি ঘটে ছেলে শিশুদের বেলায়। হয়তো এ কারণেই নারীর নিরাপত্তা নিয়ে আলাদাভাবে প্রশ্ন তুলতে হয় যখন আমরা ভুলে যাই সবার আগে সে একজন মানুষ। সেই শিশুকাল থেকে নারীর খেলনা, পোশাক আর আলাদাভাবে বসবাস, বেড়ে ওঠা, গড়ে ওঠা কিংবা প্রাপ্য অধিকারগুলো খর্ব হতে হতে এক সময় পণ্যে পরিণত হতে থাকে। আর এই সুযোগে ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশলে লিপ্ত হয়। তাকে বোঝানো হয় তোমার সঙ্গে যত অন্যায় করা হবে তার জন্য দায়ী হবে তুমি নিজেই।

এক অসহায় সময় পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি ক্রমাগত নারীকে পিছিয়ে নিতে নিতে আজ নিষ্পেষিত করে তুলেছে। ফলে নষ্ট সমাজের পুরুষতান্ত্রিক লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার ওপর তখন নারী ধর্ষিত হয় আর আমরা তাকে ধিক্কার দিই। চারদিকে আজ পুরুষরূপী কিছু হায়েনা হাত বাড়িয়ে আছে সুযোগ পেলেই প্রতিনিয়ত ছিড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে নারীকে। প্রতিনিয়ত দেশের অধিকাংশ নারী নিয়তির কাছে মাথা নত করে কালাতিপাত করছে। আর এই অবস্থায় একটু প্রতিবাদী হলেই তেঁতুল তত্ত¡ নিয়ে সরস কৌতুকে মেতে ওঠে ধর্মান্ধ সমাজব্যবস্থা। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে টাকা-পয়সা ধন-দৌলতের মতো নারীদের সঠিক সংরক্ষণ, সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য কোনো ব্যাংক গঠন করতে হবে।

ইদানীং নারীর প্রতি শ্লীলতাহানি অনেকটা মহামারী রূপ ধারণ করেছে। দুই বছরের শিশুকন্যা থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না এই নোংরা প্রবৃত্তি থেকে। বলতে পারেন কোথায় আজ নিরাপদ নারী? কর্মস্থলে, পথে, বাসে কিংবা চার দেওয়ালের আবদ্ধ ঘরে? অথচ কোথাও কোনো নারী যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের শিকার হলে প্রথমে তাকেই অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে তার পোশাকের অজুহাত তুলে। নারী ধর্ষণের প্রধান কারণটিই নাকি পোশাক! এই ধোয়া তুলে তথাকথিত পুরুষরা নারীর প্রতি যৌন নিপীড়ন করেই আসছে বলেই আর আমরা প্রগতিশীল জাতি হিসেবে সেটা মেনেই নিচ্ছি। অথবা নির্যাতিতার পক্ষ হয়ে মোমবাতি হাতে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল-মিটিং আর সেমিনারের মাধ্যমে ভিকটিমকে দায়সারা গোছের মানসিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। এই হলো আমাদের নারী নির্যাতনের চালচিত্র আর নির্যাতন পরবর্তী কর্তব্য। এতে করে কি কোনো সুরাহা হচ্ছে তা এই সুশীল সমাজই ভালো জানেন।

Facebook Comments