কদর বেড়েছে তৃণমূলের

60

ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সরাসরি ভোট হতে যাওয়া এ নির্বাচন নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ। শেষ মুহুর্তে এসে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। কাউন্সিলকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। এর মধ্যে সবচেয়ে কদর বেড়েছে তৃণমূল নেতাদের। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকেই আগ্রহী প্রার্থীরা যাচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের দরজায়।

ভোটারদের কাছে ভোট এবং দোয়া চাইছেন প্রার্থীরা। তৃণমূল নেতারাও প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ বিগত দিনে রাজপথে ছিলেন কিনা- এসব বিচার-বিশ্লেষণ করে তারা পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে চাইছেন। অতীতে কে বা কারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন কিংবা নিষ্ক্রিয়কে- এসবের চুলচেরা বিশ্নেষণ করছেন দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

দল ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে পুনর্গঠনের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বিএনপি। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোন কমিটি আর হচ্ছে না। তবে এখন থেকে কাউন্সিলররা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করবেন। ছাত্রদলের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ছাত্রদলের প্রতিটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন নেতা ভোট দিতে পারবেন। সংগঠনটির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় মোট ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন।

ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থী রয়েছে ৮ জন। আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির বৃত্তীয় ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান খোকন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহসভাপতি সাজিদ হাসান বাবু।

যশোরের সন্তান সভাপতি পদ প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণার জন্য ৪০টি জেলার কাউন্সিলরদের নিকটে গিয়েছেন। তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি সকল কাউন্সিলরদের বলেছি, আমি আপনাদের কাছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে ভোট প্রার্থনা করতে এসেছি। আপনারা আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, যোগ্যতা, ত্যাগ, বিবেচনায় নিয়ে ভোট দিবেন। তিনি বলেন, সকল কাউন্সিলরা আমাকে আশ্বস্ত করছেন। বিজয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী ইনশাআল্লাহ।

আলোচনায় রয়েছেন সভাপতি পদ প্রার্থী বাগেরহাট জেলার সন্তান হাফিজুর রহমান। তিনি ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণার জন্য ৬০টি জেলা সফর শেষ করেছেন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। হাফিজুর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে কাউন্সিলরা আগ্রহ বেশি। তাই কাউন্সিলরদের ক্যাম্পাস বেশি প্রাধান্য দিব। একই সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করব। গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তারেক রহমানকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ত্বরান্বিত সক্রিয় করতে ভূমিকা পালন করব।’

আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান খোকন। তিনি প্রচার-প্রচারণার কাজে ইতোমধ্যে ৬৪ জেলা সফর শেষ করেছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ১৯ জন: এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন সাইফ মাহমুদ জুয়েল। তিনি নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার জন্য ইতোমধ্যে ৬০টি জেলা সফর শেষ করেছেন। তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমি কাউন্সিলরদের আহ্বান করেছি তারা যেন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নৈতিকতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের বিবেচনা করে। নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কোন প্রকার প্রভাবিত না হয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।’

আলোচনায় রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনিও ইতোমধ্যে প্রচার প্রচারণার জন্য ৫০টি জেলা সফর করেছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি ডাকসু নির্বাচনে আমার ভালো ভূমিকা থাকার কারণে নেতাকর্মীদের এতো সাড়া পাচ্ছি। তিনি বলেন, ভোটারদের বলেছি আমি নির্বাচিত হলে আগামী দিনে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের পরামর্শ নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কমিটি ঘোষণা করবো। এর মাধ্যমে ছাত্রদলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনব। অতপর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানকে দেশে ফেরানোর জন্য চেষ্টা করব।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানজিল আহমেদ প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই তিনিও ইতোমধ্যে ৫৫ জেলা সফর করেছেন। তিনি বলেন, কাউন্সিলরদের বলেছি নির্বাচিত হলে প্রথমে ক্যাম্পাসগুলোতে বেশি নজর দিব। মেধার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করবো। তৃণমূল জেলা ইউনিয়ন সকল পর্যায়ের কমিটি গঠন করবো।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডালিয়া রহমান প্রচার-প্রচারণার জন্য ইতোমধ্যে ৫০টি জেলা সফর শেষ করেছেন। ডালিয়া রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমি কাউন্সিলরদের নিকটে যাচ্ছি, প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। আমি আসাবাদী কাউন্সিলররা আমাকে ভোট দেবেন, আর আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা পার্থী রয়েছেন- মশিউর রহমান রনি, আমিনুর রহমান আমিন, শেখ আবু তাহের, জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, শাহ নাওয়াজ, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন শ্যামল, মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. সোহেল রানা, কাজী মাজহারুল ইসলাম।

তফসিল অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

Facebook Comments