এ মাসেই ফের সাংগঠনিক সফরে নামছে আ’লীগ

29

ফের সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত হবে সফরের নতুন সময়সূচি।

এ মাসের শেষে সফরে নামবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, যেখানে সাংগঠনিক অচলাবস্থা, কোন্দল, দ্বন্দ্ব কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে, তা দ্রুত নিরসন করে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলাই হবে এ সফরের লক্ষ্য। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের প্রস্তুতিও সমন্বয় করবেন তারা।

বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক সফর অবশ্যই হবে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। দলের আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দিকনির্দেশনা পাব। আশা করছি, এ মাসের শেষের দিকে এটা শুরু করতে পারব।

সূত্র জানায়, অক্টোবরে ২১তম জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সম্মেলনকে সামনে রেখে আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছিল দলটি। সম্মেলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সাংগঠনিক সফরের জন্য আটটি টিমও গঠন করা হয়। বেশ কয়েকটি জেলায় সফরেও যান তারা। কিন্তু পরে আর সেই কাজে খুব বেশি গতি আসেনি। ক্ষমতাসীনরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন বন্যায় সহায়তা, গুজব মোকাবেলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে। এরপর আসে শোকের মাস আগস্ট।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হবে। দলের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ নিয়ে আমার আলোচনা হয়েছে। সময়টা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।

সেদিন আমরা আমাদের পরবর্তী সাংগঠনিক করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ের পর আমরা আবার সারা দেশে আমাদের সাংগঠনিক সফর শুরু করব। একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বুধবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, দিন-তারিখ নির্ধারণ করে তো আর সাংগঠনিক কাজ হয় না। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সবসময় চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকে।

সূত্র জানায়, টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব থাকায় তৃণমূলে বিশেষ নজর দিতে পারেনি দল। ফলে অগোছাল অবস্থা বিরাজ করছে সেখানে। ২০তম সম্মেলনের আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের মধ্যেই অনেক জেলায় সম্মেলন হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ৫ এপ্রিল দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত সময়ে দলের জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে তৃণমূল পর্যায় থেকে এ সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে বিভাগভিত্তিক ৮টি টিম গঠন কর হয়। টিমের নেতৃত্বে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে শুরু করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিনিয়র নেতারা। টিমগুলোকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলনসহ সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব দেয়া হয়। সেসময় বেশকিছু স্থানে সাংগঠনিক সফরও করেছিল টিমগুলো।

দলীয় সূত্র জানায়, আগের টিমগুলোকেই কিছুটা রদবদল করে নতুনভাবে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনে দেশের ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক দল এসব কমিটি গঠন করে দেবে এবং জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে তৃণমূলের কর্মসূচির সমন্বয় করবেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, নেত্রী চান আগামী জাতীয় সম্মেলন, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের আগেই তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করতে। কারণ অতীতে আওয়ামী লীগ যখনই বিপদে পড়েছে, এ তৃণমূলই দলকে রক্ষা করেছে। সে কারণে যত দ্বন্দ্ব, সংঘাত বা গ্রুপিং থাকুক না কেন, সবকিছু মিটিয়ে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে- এটাই আমাদের চাওয়া। এ কারণেই নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে।

Facebook Comments