আসন্ন বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশন সভা

44

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রোহিঙ্গাসহ ৮টি ইস্যু আলোচনায় স্থান পাচ্ছে বাংলাদেশ-ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ সভায়। অন্য ইস্যুর মধ্যে রয়েছেÑ বিনিয়োগ, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, নারী ও শিশু র্নিযাতন, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা, অভিভাসন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত করণীয়, বিমান পরিবহনে নিরাপত্তা। আসছে ২০-২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ইউরোপীয় কমিশন ও বাংলাদেশের যৌথ কমিশন সভায় এসব আলোচনায় স্থান পাওয়ার বিষয়টি আভাস দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা।

জানা গেছে, এই যৌথ কমিশনের সভাকে ফলপ্রসূ করতে ইতোমধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে যেন সরকার কোনোভাবেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে না হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তার একটি খতিয়ান তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে সমন্বয় করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উন্নয়ন সহযোগীরা কীভাবে মানবিক বিষয়টি উপলব্ধি করছে তাও জানতে চাওয়া হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ যেন অব্যাহত রাখা হয় সে ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবারও অনুরোধ জানানো হবে। সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমরা চেষ্টা করছি রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিকমহলে তুলে ধরার। তাই এ সভায় তার ব্যতিক্রম হবে না।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা জানতে চাইতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সম্প্রতি সময়ে নারী র্নিযাতন, শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে উন্নয়ন সহযোগীদের কৌতূহল রয়েছে। তাই বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার পর সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন তার একটি খতিয়ান চাইতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কীভাবে সহায়তা দিতে পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ চাইতে পারে।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে কিনা, সে ব্যাপারেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌতূহল রয়েছে। তাই বিষয়টি আলোচনা আসতে পারে । সরকারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন কোন খাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপারে বেশ আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক একটি কৌশলপত্র তৈরি করেছে। এমনকি এ ব্যাপারে সহায়তা দিতেও আগ্রহী। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, ভারত, মিয়ানমারসহ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল উপকৃত হবে।

যৌথ কমিশন সভায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তা হলো, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সরকারের করণীয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ইস্যুটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি বিমান পরিবহনের নিরাপত্তার বিষয়টি সভায় আলোচনায় স্থান পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments