আন্দোলনে মাঠে নেই, কাউন্সিলকে ঘিরে সারাদেশে তৎপরতা ছাত্রদল

45

বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ সাতাশ বছর পর ২৮ বছরে এসে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন অভিবাবক পাবে ছাত্রদল। এবারের কাউন্সিল উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে কদর বেড়েছে তৃণমূল নেতাদের। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়ার ঘোষণার পর থেকেই আগ্রহী প্রার্থীরা যাচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের দরজায়। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতা ও ভোটারদের কাছে ভোট এবং দোয়া চাইছেন প্রার্থীরা। তৃণমূল নেতারাও প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ বিগত দিনে রাজপথে ছিলেন কিনা- এসব বিচার-বিশ্লেষণ করে তারা পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে চাইছেন।

যদিও আন্দোলনে সেই ভাবে মাঠে দেখা যায় না ছাত্রদল নেতাদের, কিন্তু কাউন্সিলকে ঘিরে সারাদেশে তৎপরতা ছাত্রদল।

আসন্ন ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন ভোটার। এই সকল ভোটারদের সরাসরি ভোটে এবার সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের জন্য ১০৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ৭৬ জন। যাদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পদপ্রার্থী ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ৪৯ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু করে আগামী সোমবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩১ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে তৃণমূল নেতাদের কদর বেড়েছে। প্রার্থীরা ভোটারদের দারে দারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সশরীরে যচ্ছেন ভোটারদের কাছে, আবার আনেকে ফোনেই যোগাযোগ সারছেন ভোটারদের সাথে।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহসম্পাদক মামুন খান বিডি২৪লাইবকে জানান, এরই মধ্যে ছয়টি বিভাগের প্রতি জেলায় সফর শেষ করেছি। বাকি জেলাগুলোতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, জেলার নেতারা রাজধানীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিল চায়। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ঢাকার রাজপথে কার্যত এবং দৃশ্যমান আন্দোলনের সূচনা করতে চাই আমি।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বিডি২৪লাইবকে বলেন, সকল জেলার ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এদিকে ২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হলে প্রতি জেলায় সফর করবেন জানান তিনি। শ্রাবণ জানান, এ যাবত দলের যত কর্মসূচি ছিল সকল কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলাম। নির্বাচিত হলে সংগঠনকে আন্দোলনমুখী করতে ঢেলে সাজাবো। রাজপথে জোড়ালো আন্দোনের মাধ্যমে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাইফ মাহমুদ জুয়েল নির্বাচনী প্রচারকাজে এরই মধ্যে চার বিভাগ সফর করেছেন। তানজিল হাসানও এরই মধ্যে চার বিভাগ সফর শেষ করেছেন। মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির তিনটি বিভাগ সফর করেছেন। এদিকে এই প্রথম জেলা পর্যায়ের নেতা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থ মশিউর রহমান রনিও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

যশোর জেলা ছাত্র দলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর বিডি২৪লাইবকে বলেন, তারেক রহমান ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে যেই উদ্যোগ নিয়েছেন এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ভোটার হিসেবে আমাদের প্রাধান্য দেয়ার কারণে আমাদের মূল্যায়ন অনেক বেড়েছে। কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই আগ্রাহী প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যেটা অতীতে কখনো হয়নি। যারা অতীতে আন্দোলন সংগ্রামে জোড়ালো ভুমিকা রেখেছে তাদেরকেই আমরা মূল্যায়ন করব।

জানান গেছে, ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুরো সংগঠন। প্রার্থীদের মতো তাদের অনুসারীরাও যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। অতীতে আন্দোলন ও কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার প্রমাণ উপস্থাপন করছেন। প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও। একই সঙ্গে গুজব-গুঞ্জন ছড়িয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগারও করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

অতীতে কে বা কারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, কোন প্রার্থী বিবাহিত কিংবা নিষ্ক্রিয় কে- এসবের চুলচেরা বিশ্নেষণ করছেন দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ভোটারদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সিন্ডিকেটের নির্দেশনা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে। বলা হচ্ছে, জিয়া পরিবার ও দলের প্রতি অনুগতদের বেছে নিতে।

ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাবেক ছাত্রদল নেতা খায়রুল কবিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ফজলুল হকের নেতৃত্বে পাঁচজনের বাছাই কমিটি এবং শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Facebook Comments